অনলাইন নিরাপত্তার জন্য আমরা অনেকেই গুগল অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করি। তবে অনেক সময় বারবার সেশন সাইন-ইন করা, নতুন ডিভাইসে পাসকোড না পাওয়া কিংবা ফোন নম্বর পরিবর্তনের কারণে এই ফিচারটি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যদি সাময়িকভাবে অথবা স্থায়ীভাবে এই সুবিধাটি নিষ্ক্রিয় করতে চান, তবে সঠিক প্রক্রিয়া জানা অত্যন্ত জরুরি। এই গাইডে আমরা আলোচনা করব কীভাবে খুব সহজেই আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ করবেন এবং এর ফলে অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা কেন কেউ বন্ধ করতে চাইবে? এর পেছনে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ঘন ঘন ফোন পরিবর্তন করলে বা ভ্রমণকালে ওটিপি কোড পেতে সমস্যা হলে অনেকে এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বিতীয়ত, অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস অন্যদের সাথে শেয়ার করার প্রয়োজন হলে বা কোনো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার শুরু করলে এই দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সুরক্ষা কখনো কখনো বাধা সৃষ্টি করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বন্ধ করলে আপনার অ্যাকাউন্টের সুরক্ষার একটি বড় অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
আপনার ডেক্সটপ বা মোবাইল ব্রাউজার ব্যবহার করে অত্যন্ত সহজ কয়েকটি ধাপে এই সেটিংস পরিবর্তন করতে পারেন। নিচে ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো:
যেকোনো ব্রাউজার থেকে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করুন। এরপর প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করে 'Manage your Google Account' অপশনে যান। সেখান থেকে বাম পাশের মেনু থেকে 'Security' বা 'সিকিউরিটি' ট্যাবে প্রবেশ করুন।
'How you sign in to Google' সেকশনের অধীনে আপনি '2-Step Verification' দেখতে পাবেন। এতে ক্লিক করলে সুরক্ষার খাতিরে আপনার পাসওয়ার্ড দিয়ে পুনরায় সাইন-ইন করতে বলা হতে পারে।
নতুন পেজ খুললে ওপরের দিকে 'Turn off' বা 'বন্ধ করুন' একটি বোতাম দেখতে পাবেন। এটিতে ক্লিক করার পর স্ক্রিনে একটি পপ-আপ কনফার্মেশন আসবে। পুনরায় 'Turn off' নির্বাচন করলেই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষার এই স্তরটি সরে যাবে।
মনে রাখবেন, এই ফিচারটি নিষ্ক্রিয় করার সাথে সাথেই আপনার যুক্ত করা সমস্ত ব্যাকআপ কোড এবং অ্যাপ পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
যখন আপনি সাইন-ইন করার অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তরটি সরিয়ে নেন, তখন শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে যেকোনো ব্যক্তি আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে। যদি আপনার পাসওয়ার্ড কোনোভাবে ফাঁস হয়ে যায় বা সহজ অনুমেয় হয়, তবে ডেটা চুরির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত।
আপনার কি কখনো গুগল অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ করার প্রয়োজন পড়েছে? এই বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!









